‘রাজাকারের তালিকা হয়েছে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে’


সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন আজ তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া যিনি মুক্তিয

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার তার নিজের রাজনৈতিক প্রয়োজনে হীন উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন তালিকা তৈরি করেছে। রাজাকারদের তালিকা তৈরি করা বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার না করে এই ৪৯ বছর পরে রাজাকারের তালিকা কতটুকু সঠিক হয়েছে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে আওয়ামীলীগে অনেক রাজাকার আছে, যাদের নাম রাজাকারের প্রকাশিত তালিকায় নেই। এই তালিকা তৈরি হয়েছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। আওয়ামীলীগের যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সুষ্ঠু রাজাকারদের তালিকা একমাত্র মুক্তিযোদ্ধারা করতে পারেন। সেটা করতে পারবে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের দলই।

 

গতকাল সোমবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।তার আগে সকালে বিএনপি নেতারা সাভার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন আজ তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি ও নির্যাতিত হয়েছিলেন তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। দুর্ভাগ্য, যার ঘোষণায় মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন হয়েছিল তার স্ত্রী আজ কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়ার আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই ও সংগ্রাম করেছিলেন। তিনি জনগণের ভোটে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। দুবার বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে আজ অন্যায় ও নির্মমভাবে তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা শপথ নিয়েছি- জনগণকে সংগঠিত করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো এবং গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবো।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমরা ৯ মাস যুদ্ধ করে আজকের এই দিনে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছিলাম। এই যুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের কথা আজ ৪৯ বছর পরে এই দেশ সম্পূর্ণভাবে গণতন্ত্রবিহীন হয়ে পড়েছে। এই দেশে আজ মানুষের কোন অধিকার নেই, ঠোঁটের অধিকার নেই, কথা বলার অধিকার নেই। গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো হরণ করা হয়েছে। এমনকি মানুষের ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগুলোও আজ হরণ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন: জামিন না দেয়া নজিরবিহীন : খালেদা জিয়া

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম,জয়নুল আবদিন ফারুক, আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান, ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল,ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েলসহ-ছাত্রদল, যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলের বিভিন্ন স্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

ইত্তেফাক/এমআর

96 Views